মুক্তাগাছায় লজিং শিক্ষকের ধর্ষণে মাদরাসা ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা, ইমাম গ্রেপ্তার

ছবি সংগৃহীত 


**ময়মনসিংহ:** ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে মো. আব্দুল্লাহ (২৭) নামে এক লজিং শিক্ষক ও মসজিদের ইমামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে প্রায় সাত মাসের (২৭ সপ্তাহ) অন্তঃসত্ত্বা।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) গভীর রাতে উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের একটি পার্শ্ববর্তী গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ উপজেলার ভিটিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

### ঘটনার বিবরণ

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগী কিশোরীর ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী হওয়ার সুবাদে তাদের বাড়িতে লজিং থাকতেন। পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। কিশোরীর বাবা-মা ঢাকায় পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় সে গ্রামের বাড়িতে দাদির সঙ্গে থাকত।

গত বছরের ২২ নভেম্বর রাতে পড়াশোনা করার সময় কিশোরীর কক্ষে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন আব্দুল্লাহ। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ভয় ও লোকলজ্জার কারণে বিষয়টি দীর্ঘদিন গোপন রাখে ওই কিশোরী।

### যেভাবে প্রকাশ পেল ঘটনাটি

সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখে দাদির সন্দেহ হলে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায় সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর কিশোরী পরিবারের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে কিশোরীর বাবা মুক্তাগাছা থানায় মামলা করেন।

> **ভুক্তভোগী কিশোরীর বক্তব্য:** "লোকলজ্জা আর ভয়ের কারণে এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারিনি। আমি এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি আমার সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি এবং এই অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাই।"

### পুলিশের পদক্ষেপ

মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, মামলার পর থেকেই আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোর পর, সর্বশেষ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খেরুয়াজানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহের জন্য আদালতে ডিএনএ (DNA) পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়েছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন